দেশের চলমান ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট আরও বিপজ্জনক হতে পারে: জিএম কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: Kanak Sarwarপ্রকাশ: রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, দেশে এখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে। সামনে এই অর্থনৈতিক সংকট আরও বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
রবিবার বেলা সাড়ে ১২টায় রংপুর সফরে এসে সাকির্ট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, স্বাভাবিকভাবে তিন মাসের আমদানি ব্যয় সমান রিজার্ভ থাকার কথা। সে হিসাবে আমাদের দেশে এখন রিজার্ব ডলার থাকার কথা ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন। এখন আছে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে ১৫ বিলিয়ন ডলারও নেই, ১১ বিলিয়ন ডলার আছে কিনা সন্দেহ। এই অবস্থায় প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে টাকার মূল্যায়ন। মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধির কারণে দ্রব্য মূল্যর দর বাড়ছে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ আইন করলেও রাইট টু ইনফরমেশন বলতে এখন কোনো কিছু নেই। কোনো খবরা খবর দেওয়া হচ্ছে না। সব গোপন রাখা হচ্ছে। যে তথ্যই চাওয়া হয়, সেটাই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্বার জন্য হুমকি স্বরূপ। সংবিধানের ১৪৫(ক) ধারায় বলা হয়েছে, আমরা বিদেশের সঙ্গে যে চুক্তিই করি না কেন। সেটা প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত যত বিদেশি চুক্তি হয়েছে হাজার হাজার চুক্তি হয়েছে। কোনো চুক্তিই আমাদের সংসদে প্লেস করা হচ্ছে না। সংবিধান মানা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ঠিক না। বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের সম্পদ। এই সম্পদ সরকার ঠিকঠাকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে কিনা, সেই বিষয়ে জনগণকে জানতে হবে। জনগণ সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে। আমাদের দেশে বিনিয়োগ আসছে না। আমরা যে পরিমাণ খরচ করছি তার থেকে অনেক কম প্রবেশ করছে। আমরা কি কষ্ট করছি, আগামীতে আরও কি হবে এগুলো সবাইকে জানাতে হবে। সরকার এগুলো গোপন করছে। গোপন করার অর্থ আপনারা জনগণের স্বার্থবিরোধী কিছু করছেন। না জানানো টাও অপরাধ। প্রতিদিন ডলারের দাম বেড়েই চলছে। টাকা দিয়ে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো টিকিট বিক্রি করে তাদের দেশে টাকা নিতে পারছে না ডলারের অভাবে বিনিয়োগ কমবে কেন। এই অবস্থার সৃষ্টি হলো কেন ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ হঠাৎ জিরো হলো কেন। এই রিজার্ভ কই গেল। ইমপোর্ট করতেই পারছে না সরকার। মিল ফ্যাক্টরিগুলো চলতে পারছে না। মানুষ বেকার হয়ে যাচ্ছে। অসহনীয় পরিবেশ থেকে মানুষ মুক্তি চায়। কিন্তু আমরা মুক্তি দেখতে পারছি না।
জিএম কাদের বলেন, ডোনাল্ড লু সফরে এসে বলল আমেরিকান অনেক কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ করছে কিন্তু তারা প্রফিট নিয়ে যেতে পারছে না দেশে। এসব কারণে এ দেশে কেউ আর বিনিয়োগ করতে চাইবে না। তা ছাড়া এ সরকার প্রচুর লুটপাট করছে। বিদ্যুৎ-গ্যাসে লুটপাট হয়েছে। বিদেশে টাকা পাচার হয়েছে। যার কারণে আজকের এই অবস্থা।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদের অনেক কথাই বলছেন। আমি ওনাকে শ্রদ্ধা করি। আওয়ামী লীগ বলছে তারা অনেক শক্তিশালী হয়েছে। আসলে এই শক্তি কি দানবীয় শক্তি না শুভ শক্তি। দানবীয় শক্তি যদি হয় তা আমরা পছন্দ করি না। জনগণও পছন্দ করে না। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে বৈশিষ্ট হারিয়েছে। দল হিসেবে তারা রাজনৈতিক এজেন্ডা হারিয়েছে। এখন তারা কিছু পেশাজীবী আর সরকারি কর্মকর্তা নিয়ে দল। আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের কথা ভাবত। মানুষ আওয়ামী লীগের ছায়াতলে বিশ্রাম নিতে পারত। এখন আর পারে না। হাস্যকর ও অপ্রয়োজনীয় কিছু করছে যার কারণে আওয়ামী লীগ এখন দেশের মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আলা উদ্দিন মিয়া, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসীর, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় সদস্য লোকমান হোসেন।
Related News

নির্বাচনের ঘনিয়ে আসতেই জামাত-বিএনপি সংঘর্ষ।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচার চালানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের টংভাঙ্গা গ্রামে এ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দার, লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা টহল বাড়িয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে কয়েকজন নারী কর্মী আজ বিকেলে হাতীবান্ধার টংভাঙ্গা গ্রামে প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজিব প্রধানের এক কর্মীর বাড়িতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। পরে এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ চট্রগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান
আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা মাঠে আসছেন, কেউ কেউ আবার রাত থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ যোগে তারেক রহমান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সরাসরি নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাতযাপন করেন। দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চ এলাকা রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাথে জামাতের আমীরের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তার বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল হেড টিম ডুকেট এবং ডেপুটি সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) কাটে ওয়ার্ড।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনাসহ ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমেরিকার আঁতাত দেশের জন্য অশুভ সংবাদ - মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফিলিস্তিনে যখন রক্তক্ষরণ চলছে, তখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমেরিকার ‘গোপন আঁতাত’ চলছে। বিষয়টিকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ‘চরম অশনিসংকেত’। ২৪ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের আউলিয়াপুর ও সুখানপুকুরি এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। কেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির এই ছায়া? প্রশ্ন রেখে ওয়াশিংটন পোস্টের খবরের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করতে হবে— এই আঁতাতের নেপথ্যে কী? ফিলিস্তিনে যখন গণহত্যা চলছে, তখন এই ধরনের ‘গোপন সমঝোতা’ শুধু উদ্বেগজনক নয়, অশান্তিরও কারণ। নির্বাচনি আবহে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবারের নির্বাচনে চেনা প্রতিদ্বন্দ্বী ‘নৌকা’ নেই। লড়াইটা এখন জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ সঙ্গে। অতীতে এই জামায়াতের অত্যাচারে মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছিল। যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের সঙ্গে আমেরিকার এই দহরম-মহরম দেশের জন্য মোটে শুভ নয়। মির্জা ফখরুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা ভারত নই, পাকিস্তানও নই— আমরা বাংলাদেশি। তবে কেন ঘরের রাজনীতিতে ভিনদেশি মাতবরি? হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে সাহস জুগিয়ে ফখরুল বলেন, ভয় পাবেন না। আমরা সবাই একই দেশের সন্তান। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকবে। আপনাদের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়ভার আমাদের। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের সংস্থান হবে।
