নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে সিস্টেমে অস্ত্র শনাক্তকারী স্ক্যানার বন্দুক শনাক্তে ব্যর্থ
নিজস্ব প্রতিবেদক: Kanak Sarwarপ্রকাশ: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪
নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে সিস্টেমে এআই-চালিত অস্ত্র শনাক্তকারী স্ক্যানারের এক মাসব্যাপী পরীক্ষায় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র শনাক্ত করতে পারেনি। নতুন প্রকাশিত পুলিশ ডাটা অনুযায়ী, প্রায় ৩ হাজার অনুসন্ধানের মধ্যে স্ক্যানারগুলো ১১৮টির বেশি মিথ্যা পজিটিভ সংকেত দেয়, যদিও ১২টি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ছুরিগুলোর মধ্যে কিছু বৈধ পকেট ছুরি বা টুল হতে পারে, তবে এগুলো অবৈধ কিনা তা নির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।
মেয়র এরিক অ্যাডামস নিউইয়র্ক সিটির সাবওয়ে সিস্টেমে সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এটি মূলত এভলভ কোম্পানির তৈরি পোর্টেবল স্ক্যানারগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা ধাতব ডিটেক্টরের মতো দেখতে হলেও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অস্ত্র শনাক্ত করার দাবি করে। যদিও নিউইয়র্ক সিটির সাবওয়ে সিস্টেমে সহিংস অপরাধের ঘটনা খুব কম ঘটে, তবুও উচ্চ-প্রোফাইল বন্দুক হামলার কিছু ঘটনার পর এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়। মেয়র অ্যাডামস জানান, এই স্ক্যানারগুলো শহরের হাসপাতাল এবং স্কুলেও স্থাপন করা হবে।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, ৩০ দিনের পরীক্ষায় ২০টি স্টেশনে মোট ২ হাজার ৭৪৯টি স্ক্যানিং সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১১৮টি মিথ্যা সংকেত পাওয়া গেছে, যার হার ৪.২৯ শতাংশ। তবে স্ক্যানিংয়ের সময়কাল, কতজন কর্মকর্তা ডিভাইসগুলো পরিচালনা করেছেন এবং কতজন যাত্রী অনুসন্ধান প্রত্যাখ্যান করেছেন তা প্রকাশ করা হয়নি।
Related News

ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ!
বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ সদস্য নিহত হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের পাংজুর জেলায় পরিচালিত গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ‘ভারতীয় প্রক্সি ফিতনা আল হিন্দুস্তানের’ সঙ্গে যুক্ত তিন ‘সন্ত্রাসীকে’ নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকরভাবে সন্ত্রাসীদের অবস্থানে অভিযান চালায় এবং তীব্র গুলি বিনিময়ের পর স্থানীয় এলাকার কমান্ডার ফারুক ওরফে সোরো, আদিল এবং ওয়াসিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ‘সন্ত্রাসীদের’ কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় ভারত-সমর্থিত অন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ ধরতে স্যানিটাইজেশন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানায় সংস্থাটি। আইএসপিআর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, ‘আজমে ইস্তেহকাম’ দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিরলস সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান পাকিস্তান থেকে বিদেশি সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূল করার জন্য পূর্ণ গতিতে অব্যাহত থাকবে। জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পর থেকে পাকিস্তানে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কেপি এবং বেলুচিস্তান প্রদেশগুলো এই হামলার দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

বাংলাদেশ কে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় পাকিস্তানি ক্রিকেটার আফ্রিদির ক্ষোভ প্রকাশ।
২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। কাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে আইসিসি। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বাংলাদেশের দাবি ছিল, তাদের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় সরানো হয়। আইসিসি সেই দাবি মানেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে ও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির আচরণে আমি খুবই হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের বোঝাপড়া ভিন্ন।’ গত বছর ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পাকিস্তানে যেতে রাজি হয়নি। পরে আইসিসি তাদের দাবি মেনে ভারতের সব ম্যাচ দুবাইয়ে আয়োজন করে। অংশগ্রহণকারী অন্য সব দল পাকিস্তানে গেলেও ভারতের সঙ্গে খেলার জন্য তাদের দুবাইয়ে যেতে হয়েছিল। আইসিসি ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করেনি মন্তব্য করে আফ্রিদি আরও লিখেছেন, ‘ক্রিকেট পরিচালনায় সবার জন্য একই নিয়ম ও ন্যায্যতা থাকা দরকার। বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোটি কোটি সমর্থক সম্মানের দাবিদার—মিশ্রনীতি নয়। আইসিসির উচিত সম্পর্ক গড়া, ভাঙা নয়।’

নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা
কথিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। তবে ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন পূর্ণ সক্ষমতায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হিন্দুস্থান টাইমস–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরেই প্রক্রিয়াধীন ছিল। এর অংশ হিসেবে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার-পরিজনদের ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কবে নাগাদ কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাবর্তন করবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের মোট সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়নি। ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ কূটনৈতিক কর্মীদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে পাকিস্তানেও ভারতীয় কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে অনুরূপভাবে ‘নো চিলড্রেন পোস্টিং’ কার্যকর রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশে উগ্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে এবং পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ভারত অভিযোগ করেছিল, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তবে ঢাকা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে নয়াদিল্লি। ২০২৪ সালের আগস্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার পর ঢাকায় ও নয়াদিল্লিতে উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। তবে একই সময়ে ভারত বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাজনৈতিক মহলে এসব ঘটনাকে ভারত-বিএনপি সম্পর্কোন্নয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে সড়কের উদ্বোধন !
নিউইয়র্কের একটি সড়কের নাম করণ করা হলো বাংলাদেশের নামে। ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে এই সড়কটির নাম ফলক রবিবার উদ্বোধন করা হয়। জ্যাকসন হাইটসের এই সড়কের নাম করণ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর পাশাপাশি স্থানীয়দের ভিড় জমে।
স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ২টায় বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন করেন জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নবনির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপ-মহাদেশীয় বংশোদ্ভূত শেখর কৃষ্ণান।

এসময় জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ, স্টিভেন রাঘাব, কাউন্সিল মেম্বার জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস, অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা, কাউন্সিল মেম্বার লিন্ডা লি, জেবিবিএর বর্তমান সভাপতি হারুন ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, অপর জেবিবিএর সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খানসহ শত শত বাংলাদেশি।

উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলম্যানদের সাধারণ সভায় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নিলে পরে ৪৭-০ ভোটে তা পাস হয়। সেই থেকে জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউয়ের ৭৩ স্ট্রিটের নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। বিলটির সিদ্ধান্ত নম্বর হলো- আইএনটি ৮৯৭।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে ‘বাংলাদেশ’ নামে সড়ক করার জোর তৎপরতা চালান জেবিবিএর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা।
জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটির ১২৯টি স্ট্রিটের পুনর্নামকরণের বিলটি সভায় আলোচনায় আসে। এক এক করে ১২৯টি স্ট্রিটের নতুন নামকরণের প্রস্তাব শোনানো হয়। পাঁচ বরোতেই নতুন নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্ট্রিটের বা এভিনিউয়ের। এসব নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন কমিউনিটির নিজ দেশের বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটের এক ব্লকের নামকরণ করা হলো ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’।
