নিজেদের স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব দরকার: ওবায়দুল কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: Kanak Sarwarপ্রকাশ: শনিবার, ১১ মে, ২০২৪
Advertisement
নিজেদের স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা দরকার বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের বন্ধু। এটা আমাদের স্বার্থেই দরকার। আমরা কারও দাসত্ব করি না। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।’
শনিবার বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী সড়কে আয়োজিত আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বিএনপি যে শত্রুতা করেছিল, তাতে লাভ হয়নি। শত্রুতার কারণে সংশয়, সন্দেহ, অবিশ্বাস জন্মেছিল। শেখ হাসিনা সব সংশয়, সন্দেহ, অবিশ্বাস ভেঙে দিয়েছেন। ভারত এখন আমাদের বন্ধু।’
সমাবেশে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা হঠাৎ চাঙা হয়ে গেছেন। এর কারণ ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তারা আবার ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর। লু আসছেন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে। বিএনপির স্বপ্নপূরণের জন্য নয়।
গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তৃতাকে ‘মিথ্যাচার’ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, গয়েশ্বর কোথায় ছিলেন এত দিন? কোথা থেকে এলেন, কোথায় পালিয়ে ছিলেন? মাথায় তো দেখি গান্ধী টুপি। বিএনপি এখন ভণ্ডামি শুরু করেছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, দালালি কারা করে, সেটা সবার জানা। মোদির (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) নির্বাচিত হওয়ার দিন, সকালে বন্ধের দিন দূতাবাসে বিএনপির নেতারা ফুল, মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছিল। তাহলে দালাল কারা? খালেদা জিয়া ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানিবণ্টনের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, গঙ্গার পানি চুক্তির বিষয়টি তিনি নাকি ভুলেই গিয়েছিলেন। তাহলে দালাল কারা?
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাদের দেখলাম, তারা হাসিখুসি। ভারতের আপ্যায়নে, ডিনার খেয়ে বিএনপি নেতারা হাসিখুশি ছিল। ক্ষমতার স্বপ্নেও বিভোর ছিল। কিন্তু দেশের মানুষ তো ৪২ শতাংশ ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় বসিয়েছে। তিনি বলেন, এখন বিএনপি বলছে, জনগণ উপজেলা নির্বাচন নাকি প্রত্যাহার করেছে। তাহলে ৩৬ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটার, যারা ভোট দিল, তারা কারা? আসলে দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সততায়, উন্নয়নে এবং অর্জনে মুগ্ধ। তাই দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকেই বেছে নিচ্ছে৷’
বিএনপি নানা সময় নানা নাটক করে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একসময় জজ মিয়ার নাটক করল, নির্বাচনের আগে করল মিয়া আরেফির নাটক। তিনি বলেন, আবারও বিএনপির বিরুদ্ধে খেলা হবে। জনগণের জানমাল সুরক্ষায়, অপশক্তির বিরুদ্ধে খেলা আবারও হবে। প্রস্তুত থাকেন, এমন শিক্ষা দেব, পালাতে পালাতে অলিগিলি পার হয়ে বুড়িগঙ্গার পচা পানি খাবে।
বর্তমানে বৈশ্বিক নানা পরিস্থিতির কারণে দেশে চলমান কিছু সাময়িক সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।
সমাবেশে সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান। মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, কামরুল ইসলাম, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান প্রমুখ।
Related News

নির্বাচনের ঘনিয়ে আসতেই জামাত-বিএনপি সংঘর্ষ।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচার চালানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের টংভাঙ্গা গ্রামে এ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দার, লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা টহল বাড়িয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে কয়েকজন নারী কর্মী আজ বিকেলে হাতীবান্ধার টংভাঙ্গা গ্রামে প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজিব প্রধানের এক কর্মীর বাড়িতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। পরে এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ চট্রগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান
আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা মাঠে আসছেন, কেউ কেউ আবার রাত থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ যোগে তারেক রহমান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সরাসরি নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাতযাপন করেন। দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চ এলাকা রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাথে জামাতের আমীরের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তার বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল হেড টিম ডুকেট এবং ডেপুটি সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) কাটে ওয়ার্ড।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনাসহ ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমেরিকার আঁতাত দেশের জন্য অশুভ সংবাদ - মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফিলিস্তিনে যখন রক্তক্ষরণ চলছে, তখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমেরিকার ‘গোপন আঁতাত’ চলছে। বিষয়টিকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ‘চরম অশনিসংকেত’। ২৪ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের আউলিয়াপুর ও সুখানপুকুরি এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। কেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির এই ছায়া? প্রশ্ন রেখে ওয়াশিংটন পোস্টের খবরের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করতে হবে— এই আঁতাতের নেপথ্যে কী? ফিলিস্তিনে যখন গণহত্যা চলছে, তখন এই ধরনের ‘গোপন সমঝোতা’ শুধু উদ্বেগজনক নয়, অশান্তিরও কারণ। নির্বাচনি আবহে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবারের নির্বাচনে চেনা প্রতিদ্বন্দ্বী ‘নৌকা’ নেই। লড়াইটা এখন জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ সঙ্গে। অতীতে এই জামায়াতের অত্যাচারে মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছিল। যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের সঙ্গে আমেরিকার এই দহরম-মহরম দেশের জন্য মোটে শুভ নয়। মির্জা ফখরুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা ভারত নই, পাকিস্তানও নই— আমরা বাংলাদেশি। তবে কেন ঘরের রাজনীতিতে ভিনদেশি মাতবরি? হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে সাহস জুগিয়ে ফখরুল বলেন, ভয় পাবেন না। আমরা সবাই একই দেশের সন্তান। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকবে। আপনাদের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়ভার আমাদের। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের সংস্থান হবে।
