ভারতের সঙ্গে চুক্তি গোলামির নবতর সংস্করণ, হাসিনা বাংলাদেশকে বাফার স্টেট বানাতে চান
নিজস্ব প্রতিবেদক: Kanak Sarwarপ্রকাশ: রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪
হাসিনার নয়াদিল্লি সফর প্রসঙ্গে বিএনপি
প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফরে ভারতের সঙ্গে যে ১০টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, সেগুলো গোলামির নবতর সংস্করণমাত্র বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, কানেকটিভিটির নামে ভেতরে ভারতের এক অংশ থেকে আরেক অংশে রেল যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডর দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
রবিবারা বিকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিশ্চয়ই ১৯৭২ সালে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের গোলামি চুক্তির কথা স্মরণ আছে। ৫২ বছর পর সে ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুন ভারতের সঙ্গে সমঝোতার আড়ালে যেসব চুক্তি করা হলো, তা বাংলাদেশকে আজীবনের জন্য ভারতের গোলামে পরিণত করবে। এর ফলে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
এসব চুক্তি-সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে ভারতের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার অংশে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই বিপজ্জনক এবং দেশের স্বাধীনতার প্রতি হুমকি। এটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও জোট নিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী। বস্তুত, এসব সমঝোতা ও চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নিরাপত্তাকৌশলগত বাফার স্টেট হিসেবে ভারতকে ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে চান।’
এর ফলে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জটিলতার মধ্যে পড়বে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যে সাতটি সমঝোতা স্মারক নতুন করে সই করা হয়েছে, সেগুলোর প্রায় সবই বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকেন্দ্রিক। প্রয়োজনের সময় বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারতের সামরিক ও বেসামরিক পণ্য পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’কে বাইপাস করে ব্যবহার করার সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা থেকেই এসব সমঝোতা-চুক্তি করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। জাতীয় স্বার্থবিরোধী এসব চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব।
গত দেড় দশকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সম্পর্কের তথাকথিত এই সোনালি অধ্যায়-এর সময়কালে বাংলাদেশের জনগণের তরফে প্রাপ্তি শূন্যের কোঠায়। এ সময়ে দুই দেশের মধ্যকার লেনদেনের প্রধান অংশজুড়ে রয়েছে কানেকটিভিটির নামে একের পর এক ভারতকে ট্রানজিট ও করিডর–সুবিধা দেওয়া। ট্রানজিট-করিডর দেওয়ার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি সত্ত্বেও সবকিছুই একতরফাভাবে করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, একদিকে ভারত পেয়েছে অবাধ স্থল ও নৌ ট্রানজিট, যা ভারতের অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে উত্তর–পূর্ব ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’–এর যোগাযোগের সময় ও দৈর্ঘ্য কমিয়েছে প্রায় তিন–চতুর্থাংশ। কলকাতা-আগরতলার ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫০ কিলোমিটারে। ভারত পেয়েছে বাংলাদেশের পায়রা, মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের অগ্রাধিকারের সুবিধা। অন্যদিকে বাংলাদেশ নেপালের মাত্র ২১-২২ কিলোমিটারের ট্রানজিট–সুবিধা ভারতের কাছ থেকে আদায় করতে পারেনি।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সে কারণে জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। তাই দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্যও তারা সচেষ্ট নয়। এর ফলে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রেল করিডর দেওয়ার চুক্তি; তিস্তা প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা গ্রহণ; প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা; ওষুধসংক্রান্ত সমঝোতা; বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতের অবাধ বিচরণ; ভারতের ইন স্পেস এবং বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের যৌথ স্যাটেলাইট সমঝোতা; ডিজিটাল পার্টনারশিপ; গ্রিন পার্টনারশিপ; সমুদ্র সহযোগিতা ও সুনীল অর্থনীতি ইত্যাদি নানা নাম দিয়ে যে ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো, তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি শূন্য।
বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার চেয়ে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দায়বদ্ধতা থেকে এসব সমঝোতা সই হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তার মতে, সে কারণেই অনেক আগে ভারতের সঙ্গে হওয়া সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় ঋণচুক্তি (লাইন অব ক্রেডিট—এলওসি) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে এ সফর ছিল নীরব। তা ছাড়া ডলারকে পাশ কাটিয়ে ভারতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য পরিচালনার বিষয়টি উঠে এসেছে আলোচনায়। অথচ বাংলাদেশের রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান মুদ্রাই হচ্ছে মার্কিন ডলার। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর করে বিপুল বাণিজ্যিক ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার কিছুই এসব সমঝোতায় স্থান পায়নি।
বাংলাদেশ—ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে প্রতিবছর রেকর্ডসংখ্যক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরও এ সফরে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার চূড়ান্তভাবে নির্লিপ্ত থেকেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত অন্তত ১১ বাংলাদেশি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩৬ বাংলাদেশি নিহত এবং ১ হাজার ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। এমনকি বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সদস্যরাও রেহাই পাননি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত-নেপাল, ভারত-চীন ও ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে এতসংখ্যক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে দেখা যায় না। তারপরও বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরছে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Related News

নির্বাচনের ঘনিয়ে আসতেই জামাত-বিএনপি সংঘর্ষ।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচার চালানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের টংভাঙ্গা গ্রামে এ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দার, লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা টহল বাড়িয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে কয়েকজন নারী কর্মী আজ বিকেলে হাতীবান্ধার টংভাঙ্গা গ্রামে প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজিব প্রধানের এক কর্মীর বাড়িতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। পরে এ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ চট্রগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান
আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা মাঠে আসছেন, কেউ কেউ আবার রাত থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ যোগে তারেক রহমান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সরাসরি নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাতযাপন করেন। দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চ এলাকা রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাথে জামাতের আমীরের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তার বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল হেড টিম ডুকেট এবং ডেপুটি সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) কাটে ওয়ার্ড।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনাসহ ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমেরিকার আঁতাত দেশের জন্য অশুভ সংবাদ - মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফিলিস্তিনে যখন রক্তক্ষরণ চলছে, তখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমেরিকার ‘গোপন আঁতাত’ চলছে। বিষয়টিকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ‘চরম অশনিসংকেত’। ২৪ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের আউলিয়াপুর ও সুখানপুকুরি এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। কেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির এই ছায়া? প্রশ্ন রেখে ওয়াশিংটন পোস্টের খবরের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করতে হবে— এই আঁতাতের নেপথ্যে কী? ফিলিস্তিনে যখন গণহত্যা চলছে, তখন এই ধরনের ‘গোপন সমঝোতা’ শুধু উদ্বেগজনক নয়, অশান্তিরও কারণ। নির্বাচনি আবহে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবারের নির্বাচনে চেনা প্রতিদ্বন্দ্বী ‘নৌকা’ নেই। লড়াইটা এখন জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ সঙ্গে। অতীতে এই জামায়াতের অত্যাচারে মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছিল। যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের সঙ্গে আমেরিকার এই দহরম-মহরম দেশের জন্য মোটে শুভ নয়। মির্জা ফখরুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা ভারত নই, পাকিস্তানও নই— আমরা বাংলাদেশি। তবে কেন ঘরের রাজনীতিতে ভিনদেশি মাতবরি? হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে সাহস জুগিয়ে ফখরুল বলেন, ভয় পাবেন না। আমরা সবাই একই দেশের সন্তান। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকবে। আপনাদের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়ভার আমাদের। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের সংস্থান হবে।
