লক আউট পদ্ধতির মাধ্যমে এক ন্যায়বিচারহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন উবার ও লিফট ড্রাইভাররা
নিজস্ব প্রতিবেদক: Kanak Sarwarপ্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪
নিউইয়র্ক শহরের উবার ও লিফট ড্রাইভাররা লক আউট পদ্ধতির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে এক ন্যায়বিচারহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ড্রাইভাররা অভিযোগ করছেন যে, উবার ও লিফট তাদের অ্যাপ থেকে ইচ্ছামতো ‘লক আউট’ করছে। উবার ও লিফট কর্তৃক ইচ্ছামতো আরোপিত ড্রাইভারদের ‘লক আউট’ তাদের কাজের প্রবেশাধিকার এবং আয় থেকে বঞ্চিত করছে। এই লক আউট পদ্ধতি ড্রাইভারদের ন্যূনতম বেতন আইনের ফাঁকফোকর এড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে ও চালকদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসিক চাপ তৈরি করছে। ড্রাইভাররা আগামী বছরে শত শত মিলিয়ন ডলার আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
গত ১৭ অক্টোবর সিটি কনট্রোলারের অফিস, ১ সেন্টার স্ট্রিটে এক প্রতিবাদ সভার অয়োজন করেন। নিউইয়র্ক সিটি কনট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার এবং নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স (টিডব্লিউএ) একসঙ্গে উবার ও লিফটের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তারা দাবি করছেন যে, উবার ও লিফটের এই শোষণমূলক কৌশলের অবসান ঘটাতে হবে এবং ড্রাইভারদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করতে হবে।
ব্লুমবার্গের নিউজের এক তদন্তে জানা গেছে যে, এই লক আউটের কারণে চালকদের আয় কমে গেছে। ফলে চালকদের কম আয়ের জন্য দীর্ঘসময় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে ড্রাইভাররা ভাড়া এবং বিল পরিশোধ করতে অক্ষম হচ্ছে। তাদের ক্রেডিট কার্ডের ঋণ বাড়ছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। উপরন্তু, উবার এবং লিফট তাদের ‘ব্যবহারের হার’ কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ড্রাইভারদের ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
কনট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারবলেন, ‘আমি গর্বিত যে আমি নিউইয়র্ক শহরের প্রথম ন্যূনতম বেতন আইনের প্রণেতা ছিলাম, যা চালকদের জীবিকা নির্বাহের জন্য উপযুক্ত বেতন নিশ্চিত করে। কিন্তু আমরা চুপ করে থাকবো না, যখন উবার এবং লিফট চালকদের শোষণ করে তাদের মুনাফা বাড়ানোর জন্য লক আউটের মাধ্যমে আমাদের নিয়মগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভৈরবী দেসাই বলেন, এই লক আউটের কারণে চালকরা আগামী বছরে ৫ হাজার ডলার থেকে ৮ হাজার ডলার আয় থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা এটি মেনে নেবো না এবং মাসব্যাপী প্রতিবাদের পর আমরা আর একা নই। আমাদের সঙ্গে কনট্রোলার আছেন, যাতে চালকদের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
নিউইয়র্ক শহরের ন্যূনতম বেতন আইন ২০১৮ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে ট্যাক্সি ড্রাইভারদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সম্প্রতি লক আউটের মাধ্যমে উবার এবং লিফট এই আইন লঙ্ঘন করছে। লক আউটের মাধ্যমে চালকদের কাজের সময় নির্দিষ্ট করা হচ্ছে, যা তাদের আয়কে কমিয়ে দিচ্ছে।
ল্যান্ডার এবং নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স একসঙ্গে কাজ করে টিএলসির নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স টিএলসিকে লক আউটের সময়ের ভুল ডাটা বাতিল করে চালকদের প্রকৃত ব্যবহারের হার এবং বেতন নির্ধারণ করতে দাবি জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের আইনজীবী জুবিন সোলেইমানি বলেন, উবার এবং লিফট লক আউটের মাধ্যমে টিএলসি চালকদের বেতন নির্ধারণে ব্যবহার করে ডাটাসেটকে বিকৃত করেছে।যেখানে আপনার বস আপনার সময় কার্ড নিয়ে কাজ করার সময় আপনাকে বাহিরে নিয়ে আসছে।
কাউন্সিল সদস্য শাহানা হানিফ বলেন, ব্রুকলিনের লিটল বাংলাদেশ এলাকা, যেখানে শত শত শ্রমজীবী অভিবাসী ট্যাক্সিচালক বসবাস করে, তাদের প্রতিনিধিত্বকারী কাউন্সিল সদস্য হিসেবে আমি উবার এবং লিফটের অন্যায় লক আউট এবং ডিঅ্যাকটিভেশন পদ্ধতিতে ক্ষুব্ধ। চালকদের কষ্টার্জিত মজুরি থেকে বঞ্চিত করার এ কৌশলগুলো একেবারে শোষণমূলক।
এই লক আউট পদ্ধতি চালকদের জীবিকা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে, যা ন্যূনতম বেতন আইনের মূল লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। উবার এবং লিফটের এই শোষণমূলক কার্যক্রমের অবসান ঘটানো প্রয়োজন, যাতে চালকরা তাদের প্রাপ্য ন্যায্য আয় নিশ্চিত করতে পারেন। ব্র্যাড ল্যান্ডার এবং নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের যৌথ প্রচেষ্টা চালকদের অধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং টিএলসির মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
Related News

ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ!
বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ সদস্য নিহত হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের পাংজুর জেলায় পরিচালিত গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ‘ভারতীয় প্রক্সি ফিতনা আল হিন্দুস্তানের’ সঙ্গে যুক্ত তিন ‘সন্ত্রাসীকে’ নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকরভাবে সন্ত্রাসীদের অবস্থানে অভিযান চালায় এবং তীব্র গুলি বিনিময়ের পর স্থানীয় এলাকার কমান্ডার ফারুক ওরফে সোরো, আদিল এবং ওয়াসিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত ‘সন্ত্রাসীদের’ কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় ভারত-সমর্থিত অন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ ধরতে স্যানিটাইজেশন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানায় সংস্থাটি। আইএসপিআর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, ‘আজমে ইস্তেহকাম’ দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিরলস সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান পাকিস্তান থেকে বিদেশি সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূল করার জন্য পূর্ণ গতিতে অব্যাহত থাকবে। জিও নিউজের খবরে বলা হয়, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের পর থেকে পাকিস্তানে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কেপি এবং বেলুচিস্তান প্রদেশগুলো এই হামলার দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে-দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে ঢাকা
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে সরকার। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে সহিংসতায় উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে ঢাকা। বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে প্রকাশ্যভাবে উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে বলে সরকার মনে করে। এতে আরও বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখনো এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং, ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দেয়া এবং একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দেয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা- যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একইসঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারগুলোর পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানায়, এসব কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচন দিবসে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ওপর বর্তাবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।

বাংলাদেশ কে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় পাকিস্তানি ক্রিকেটার আফ্রিদির ক্ষোভ প্রকাশ।
২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। কাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে আইসিসি। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বাংলাদেশের দাবি ছিল, তাদের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় সরানো হয়। আইসিসি সেই দাবি মানেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে ও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির আচরণে আমি খুবই হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের বোঝাপড়া ভিন্ন।’ গত বছর ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পাকিস্তানে যেতে রাজি হয়নি। পরে আইসিসি তাদের দাবি মেনে ভারতের সব ম্যাচ দুবাইয়ে আয়োজন করে। অংশগ্রহণকারী অন্য সব দল পাকিস্তানে গেলেও ভারতের সঙ্গে খেলার জন্য তাদের দুবাইয়ে যেতে হয়েছিল। আইসিসি ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করেনি মন্তব্য করে আফ্রিদি আরও লিখেছেন, ‘ক্রিকেট পরিচালনায় সবার জন্য একই নিয়ম ও ন্যায্যতা থাকা দরকার। বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোটি কোটি সমর্থক সম্মানের দাবিদার—মিশ্রনীতি নয়। আইসিসির উচিত সম্পর্ক গড়া, ভাঙা নয়।’

নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা
কথিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। তবে ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন পূর্ণ সক্ষমতায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হিন্দুস্থান টাইমস–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরেই প্রক্রিয়াধীন ছিল। এর অংশ হিসেবে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার-পরিজনদের ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কবে নাগাদ কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাবর্তন করবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের মোট সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়নি। ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ কূটনৈতিক কর্মীদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে পাকিস্তানেও ভারতীয় কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে অনুরূপভাবে ‘নো চিলড্রেন পোস্টিং’ কার্যকর রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশে উগ্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে এবং পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ভারত অভিযোগ করেছিল, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তবে ঢাকা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে নয়াদিল্লি। ২০২৪ সালের আগস্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার পর ঢাকায় ও নয়াদিল্লিতে উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। তবে একই সময়ে ভারত বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাজনৈতিক মহলে এসব ঘটনাকে ভারত-বিএনপি সম্পর্কোন্নয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
