শরিয়াহভিত্তিক ৬ ব্যাংকের অবস্থা এখন আরও খারাপ-বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক: Kanak Sarwarপ্রকাশ: রবিবার, ৩০ জুন, ২০২৪
ইসলামি ধারার ছয়টি ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এসব ব্যাংকে যে পরিমাণ আমানত জমা হয়েছে, তারা এর চেয়ে অনেক বেশি ঋণ বিতরণ বা বিনিয়োগ করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে থাকা এসব ব্যাংকের চলতি হিসাবে ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ বিবেচনায় এসব ব্যাংককে জামানত ছাড়াই টাকা ধার দিচ্ছে এবং লেনদেন হিসাব চালু রেখেছে। এ কারণেই মূলত নতুন ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এসব ব্যাংককে ঝুঁকি নিয়ে টাকা ধার দিলেও যথাযথ তদারকি করছে না বলে অভিযোগ আছে। এ জন্য সংকটও কাটছে না। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
দেশে বর্তমানে ইসলামি ধারার ব্যাংক রয়েছে ১০টি। এর মধ্যে সমস্যায় রয়েছে ছয়টি। সেগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামি ধারার ১০ ব্যাংকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে আমানত ছিল ৪ লাখ ৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা গত মার্চে কমে হয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে তাদের আমানত কমেছে ৪ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। অন্যদিকে তখন এসব ব্যাংকের ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে তাদের দেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা, যা মার্চে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা।
এদিকে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের অনুপাত (এডিআর) ৯২ শতাংশ হলেও গত মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ৯৯ শতাংশ, যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৯৬ শতাংশ। এতে এসব ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ৫ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ৬০৫ কোটি টাকা। তারল্য কমেছে ৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা।
আর্থিক অবস্থা ভালো দেখাতে ২০২৩ সালের শেষ কার্যদিবসে তারল্যসংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ইসলামিসহ মোট সাতটি ব্যাংককে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে গত বছরের ডিসেম্বরে সংকট থেকে উদ্বৃত্ত তারল্য দেখায় ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। এর প্রভাবে পুরো ইসলামি ব্যাংকিংয়ে উদ্বৃত্ত তারল্যের উন্নতি হয়। অবশ্য এর আগের প্রান্তিকে উদ্বৃত্ত তারল্য নিম্নমুখী ছিল। ওই পাঁচ ইসলামি ব্যাংককে ২০২২ সালেও একই পন্থায় বড় অঙ্কের অর্থ ধার দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শাহজালাল ও এক্সিম ব্যাংকের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংকে সংকট চললেও তারা আগ্রাসী ঋণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। গ্রাহকের আমানতের টাকা না থাকায় এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ধারের টাকায় তারা ঋণ দিয়ে যাচ্ছে। এতে ইসলামি ধারার সব ব্যাংকের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে। একই রকম বক্তব্য দেন আল-আরাফাহ্ ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দুজন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো অনেক দিন ধরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ তারল্য (এসএলআর) সংরক্ষণ করতে পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সংরক্ষিত চলতি হিসাবেও বিপুল ঘাটতি নিয়ে চলছে তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মে পর্যন্ত ওই পাঁচ ব্যাংকে চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ১৬ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকের ২ হাজার ৬১ কোটি টাকা ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ২২৭ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল।
এদিকে সংকটের পরিস্থিতিতেও ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো জনবল নিয়োগ দিয়ে চলছে। নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছেন চট্টগ্রামের একটি এলাকার নাগরিকেরা। গত ডিসেম্বরের শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোয় জনবল ছিল ৪৮ হাজার ৮৮৩ জন, যা মার্চে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৭৪২ জন। তবে আলোচ্য ইসলামি ব্যাংকগুলোর আনা রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বেড়েছে, কিন্তু রপ্তানি আয় কমেছে।
গত মার্চ প্রান্তিকে ইসলামি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৭ হাজার টাকা, যা ডিসেম্বরে ছিল ২৪ হাজার কোটি টাকা। আর জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি আয় আসে ২৯ হাজার কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরে ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ তিন মাসে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি আয় ১ হাজার কোটি টাকা কম এসেছে। রপ্তানি আয় কমলেও আমদানির দায় পরিশোধ ঠিকই বেড়েছে।
Related News
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে আধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে।
গেজেটে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা বিধান অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। এ বিষয়ে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
এতে আরও বলা হয়, এ প্রতিরোধ কর্মে এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেয়া প্রয়োজন। তাই এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশটি করা হয়েছে ।অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে দায়ের করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত কোনো আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত এ মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। এ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এ যা কিছু থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে (পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) কর্মরত ছিলেন, সেক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা আগে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না।
তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দেবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়-অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।
এক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়।
অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে-দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে ঢাকা
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে সরকার। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে সহিংসতায় উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে ঢাকা। বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে প্রকাশ্যভাবে উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে বলে সরকার মনে করে। এতে আরও বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখনো এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং, ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দেয়া এবং একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দেয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা- যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একইসঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারগুলোর পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানায়, এসব কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচন দিবসে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ওপর বর্তাবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।

আজ চট্রগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান
আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা মাঠে আসছেন, কেউ কেউ আবার রাত থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ও মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ যোগে তারেক রহমান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সরাসরি নগরের পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাতযাপন করেন। দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চ এলাকা রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশ কে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় পাকিস্তানি ক্রিকেটার আফ্রিদির ক্ষোভ প্রকাশ।
২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড। কাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে আইসিসি। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বাংলাদেশের দাবি ছিল, তাদের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় সরানো হয়। আইসিসি সেই দাবি মানেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে ও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির আচরণে আমি খুবই হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের বোঝাপড়া ভিন্ন।’ গত বছর ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পাকিস্তানে যেতে রাজি হয়নি। পরে আইসিসি তাদের দাবি মেনে ভারতের সব ম্যাচ দুবাইয়ে আয়োজন করে। অংশগ্রহণকারী অন্য সব দল পাকিস্তানে গেলেও ভারতের সঙ্গে খেলার জন্য তাদের দুবাইয়ে যেতে হয়েছিল। আইসিসি ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করেনি মন্তব্য করে আফ্রিদি আরও লিখেছেন, ‘ক্রিকেট পরিচালনায় সবার জন্য একই নিয়ম ও ন্যায্যতা থাকা দরকার। বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোটি কোটি সমর্থক সম্মানের দাবিদার—মিশ্রনীতি নয়। আইসিসির উচিত সম্পর্ক গড়া, ভাঙা নয়।’
